শিরোনাম :
-->
English
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ইং

প্রচ্ছদ » জাতীয় !!

এরশাদ আল্লামা শফীর দোয়া নয় বদদোয়া নিয়ে গেছেন - বাবুনগরী

25 Nov 2013 12:13:28 AM Monday BdST

হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাত্ থেকে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আল্লামা শাহ আহমদ শফীর দোয়া নয়, বরং বদদোয়াই নিয়ে গেছেন। হেফাজত আমির মাঠে-ময়দানে যারা ইসলামের পক্ষে কাজ করছেন, তাদের সাফল্য কামনা করে দোয়া করেছিলেন। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বর্তমান রাজনৈতিক যে অবস্থান, তাতে এটা কখনও তার জন্য দোয়া বলা যায় না, বরং বদদোয়াই বলতে হয়। গতকাল শনিবার হেফাজতের আমিরের প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদের পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী এ মন্তব্য করেন। 
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৭ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব হিসেবে আমিও উপস্থিত ছিলাম। কুশল বিনিময় শেষে হেফাজত আমির এরশাদকে ঈমান-আমল ও ইসলামের ওপর চলার জন্য হিদায়াতি বিভিন্ন উপদেশ দেন। পাশাপাশি ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদীদের বিভিন্ন অপতত্পরতার কথা তুলে ধরে এরশাদকে তার দলীয় অবস্থান থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান। 
হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী এরশাদকে উদ্দেশ করে আরও বলেছিলেন, দেশে যে হারে ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর একের পর এক আঘাত হানা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মানা যায় না। সরকার কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস করবে না বলে ক্ষমতায় এলেও ইসলাম অবমাননাকারীদের কোনো বিচার করছে না। সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের ধারাকে বাদ দেয়া হয়েছে এবং শিক্ষা-সংস্কৃতিকসহ সর্বস্তরে উদ্বেগজনক হারে ইসলামের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ তখন বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মীয় শিক্ষাসহ বিভিন্ন স্তরে জাতীয় পার্টির বিগত সরকার ইসলামের পক্ষে কাজ করেছিল’। এরশাদ আরও বলেছিলেন, ‘বর্তমান সরকার সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের ধারা বাদ দিয়েছে। আমি প্রতিবাদ করলে তারা জানিয়েছে, নাস্তিকদের চাপে তারা এটা করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাদ দিতে আমি দেইনি’।
এরশাদ আরও বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় এলে মসজিদে আজান দেয়া বন্ধ করে দেবে। ওয়াজ-মাহফিল নিষিদ্ধসহ ইসলামবিরোধী অনেক কাজ শুরু হয়ে যাবে। মাদরাসা শিক্ষা বন্ধসহ আলেম-ওলামাদের ইসলামের পক্ষে কাজ করতে দেবে না। আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে দেশে ইসলাম থাকবে না’। 
বিবৃতিতে আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, এ সময় সংগঠনের মহাসচিব হিসেবে এরশাদকে হেফাজতে ইসলামের অরাজনৈতিক অবস্থান ও ঈমান-আকিদা ভিত্তিক আদর্শিক আন্দোলন সম্পর্কে অবহিত করে আমি বক্তব্য দিয়েছি।
এরশাদকে তখন আরও বলেছিলাম, ঈমান-আকিদার সুরক্ষা এবং দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে হেফাজতের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে সমর্থন ও ভূমিকা রাখার জন্য দলমত নির্বিশেষে আমরা সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে থাকি। আগামীতে যারাই সরকার গঠন করুক, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা বাস্তবায়নে তাদেরকে কাজ করতে হবে। হেফাজতে ইসলাম সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ঈমান-আকিদাভিত্তিক একটি ইসলামী সংগঠন। কোন সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা জোটের প্রতি আমাদের সমর্থন নেই। এরশাদকে ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে কাজ করার জন্য তখন আমিও স্পষ্ট আহ্বান জানিয়েছিলাম।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, হেফাজতে ইসলামের অরাজনৈতিক দৃঢ় অবস্থানের কথা জেনে এরশাদ তার প্রতি হেফাজতের সমর্থন কামনার কোনো সুযোগই না পেয়ে বলেছিলেন, আমি সমর্থন লাভের জন্য নয়, হুজুরের দোয়া নেয়ার জন্য এসেছি। দোয়ার সময় হুজুর এরশাদের মনের সত্ উদ্দেশ্য কবুল এবং যারা ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে কাজ করবে, তাদের সাফল্যের জন্য দোয়া করেছিলেন। দোয়া করার সময় হেফাজত আমির ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদ ও তাদের দোসরদের থেকে বাংলাদেশকে হেফাজত করার অথবা তাদেরকে ধ্বংস করার জন্যও দোয়া করেছিলেন।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আরও বলেন, হেফাজত আমির একজন খুবই উঁচুমাপের আধ্যাত্মিক ধর্মীয় গুরু ও বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব। ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদি জনতার কাছে তার দোয়ার গুরুত্ব অত্যধিক। তিনি যে শর্তে এরশাদকে দোয়া করেছিলেন, তাতে এরশাদের বর্তমান রাজনৈতিক ভূমিকা ও তত্পরতায় এটা তার জন্য বদদোয়া হিসেবেই সাব্যস্ত হচ্ছে। এরশাদ ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে নানা মুখরোচক বুলি আওড়ালেও কার্যক্ষেত্রে বর্তমানে তার ইসলামবিরোধী ভূমিকাই জাতির কাছে স্পষ্ট হয়েছে। সেই শুরু থেকেই তিনি ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবেই ইসলামকে ব্যবহার করে আসছেন বলে অনেক ওলামায়ে কেরাম মত দিচ্ছেন। ইসলামের পক্ষে বিভিন্ন ভূমিকার কথা বললেও বাস্তব জীবনে ধর্মীয় অনুশাসনের ছিটেফোঁটাও এরশাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় না। ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে বড় বড় কথা বলে এরশাদ আলেম-ওলামা ও তৌহিদি জনতাকে ধোঁকা দিচ্ছেন। বর্তমান ভূমিকায় ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদি জনতা যারপরনাই তার ওপর ক্রুদ্ধ হয়ে আছেন। সারাদেশে তার প্রতি গণধিক্কার চলছে। হেফাজতের আন্দোলন ও শাপলা চত্বর নিয়ে এতোদিন এরশাদের মুখে ইসলামের পক্ষে বুলি আওড়াতে দেখা গেলেও এটা যে চতুরতার অংশ, তা বুঝতে এখন আর বাকি নেই। মূলত এরশাদ তার স্বৈরাচারী শাসনামল থেকেই ক্ষমতা ও ভোগবাদিতার জন্য নানা ডিগবাজি দেখিয়ে আসছেন। বিবৃতিতে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের বিশ্বাসভঙ্গের করুণ পরিণতি থেকে তিনি রেহাই পাবেন না।

 

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

পাঠকের মন্তব্য (0)

সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময়সূচী

ওয়াক্ত সময় শুরু
ফজর ০৩:৫৬
জোহর ১২:০৬
আসর ১৫:২৭
মাগরিব ১৮:৫০
এশা ২০:১৬
সূর্যোদয় ০৫:২২
সূর্যাস্ত ১৮:৫০
তারিখ ১৬ জুলাই ২০১৮