শিরোনাম :
-->
English
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ইং

প্রচ্ছদ » সাকà§�ষাৎকার !!

ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর যত ‘অপরাধ’

24 May 2017 01:34:20 AM Wednesday BdST

বাংলাদেশের চিকিৎসা জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর অপরাধ তার পেশাটিকে ইবাদতের মতো গ্রহণ করেছিলেন। তার অপরাধ তার অসংখ্য জার্নাল, প্রকাশনা পশ্চিমা দুনিয়াসহ দেশে দেশে চিকিৎসকদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ালেও, বিদেশের নামী-দামী হাসপতালের বড় চিকিৎসক হবার সুযোগ থাকলেও, আয়েশের নিরাপদ জীবনের সকল সুযোগ-সুবিধা নাকচ করে দিয়েছেন। এ বি এম আবদুল্লাহ আপাদমস্তক সৎ, ভদ্র, বিনয়ী, নিরহংকারী, নির্লোভ, দেশপ্রেমিক চিকিৎসক হিসাবে মানতবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। এটাই তার অপরাধ। তার আরো অপরাধ রয়েছে, তিনি ধনী-গরিব নির্বিশেষে আপন করে নিয়ে চিকিৎসা সেবা দেন। একজন চিকিৎসক যে মানবতার প্রতি অসুস্থ মানুষের পরম আশ্রয় সেই জায়গাটি তিনি বিশাল হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করেছিলেন। তার প্রাপ্য ফি তিনি কখনো নিতেন না। কে কি দিল না দিল সেটাও দেখতেন না। দিবারাত্রী রোগীর সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। এটিই তার অপরাধ। তিনি ছিলেন তরুণ প্রজন্মের আদর্শিক চিকিৎসকদের আইডল। তিনি ডেঙ্গুরোধ প্রতিরোধ করে দারিদ্রপীড়িত বাংলাদেশের মানুষের মনের গভীরে আশ্রয় নেয়া ভয়, আতঙ্ক বহু আগেই নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন। পীর ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী ভর্তি জটিল পরিস্থিতি নিয়ে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি রোগ নির্ণয়ও করেছিলেন। কিন্তু গভীর বেদনার সঙ্গে বলতে হয়, সেই রোগীনীর মৃত্যু সবচে বেশি ব্যথিত করেছিল তাকে। কারণ তিনি সেই চিকিৎসক যিনি আল্লাহর পর মৃত্যু পথযাত্রী মানুষের জীবন ফিরিয়ে দেয়ার ব্রত নিয়েই চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। কিন্তু সেই রোগীনীর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে এমন স্ট্যাটাস দিয়ে বসলেন তার বন্ধু ইব্রাহিম কার্ডিয়াক মেডিকেলের এক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এই খবরে উত্তেজিত হয়ে উঠলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ। এখন তারা আর গণতন্ত্রের জন্য এমনকি তাদের নায্য দাবি ডাকসু নির্বাচনের জন্য প্রক্টরের হাতে লাঞ্চিত হলেও প্রতিবাদ করতে জানেন না। তারা তাদের আবাসন সংকট নিরসন থেকে খাবারের মান বাড়ানোর আন্দোলনে তেজোদ্দীপ্ত হয়ে উঠতে পারেন না। কিন্তু ল্যাব এইড একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাধীন শিক্ষকের মৃত্যুতে হামলা ভাংচুর চালিয়ে ৫০ লাখ টাকা আদায় করে দেয়ার বীরত্ব ভুলতে পারেনি। তাই সদলবলে তারা ছুটে আসলেন সেন্ট্রাল হাসপাতালে। হাসপাতালটির চিকিৎসকদের রক্তাক্ত করলেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের আতংকিত করলেন। পরিচালককে গ্রেপ্তার করিয়েছিলেন। এমনকি ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর মত উপমহাদেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ যিনি মানুষের পরম আশ্রয় ও নির্ভয়ের স্থান, মানুষের আস্থার প্রতীক, বিশ্বাসের প্রতীক; তার বিরুদ্ধে মামলা দিলেন। আর এই অরাজকতার উসকানিদাতা হিসাবে খলনায়কের ভূমিকায় নেপথ্যে আবির্ভূত হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এম আমজাদ আলী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একদা প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) সেকেন্ড পার্লামেন্ট বলা হতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব ভাষার আন্দোলন থেকে স্বাধীকার, স্বাধীনতার পথে সুমহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের গৌরব। গণতন্ত্র মুক্তির তীর্থস্থান। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা যখন হাসপাতালে ভাঙচুর করেন, চিকিৎসকদের মারধর করেন, এ বি এম আবদুল্লাহর মতো সর্বজন শ্রদ্ধেয় গুণী মানুষকে মামলার আসামি করেন তখন সবার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। আমাদের দেশ এখন অনেক এগিয়েছে। চিকিৎসাজগতে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। চিকিৎসা সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। একসময় বিদেশে চিকিৎসার জন্য দেশের কোটি কোটি টাকা বাইরে চলে যেত। সেটা এখন কমে এসেছে। বিদেশে চিকিৎসার জন্য দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগ হয়, প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু এই ধরণের আনাকাঙ্খিত ঘটনা মানুষের দেশপ্রেমের বিশ্বাসের ওপর আঘাত হানে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ মতো মানুষকে অসম্মান করার কারণ টা কি? তার অপরাধটা কি, এটাই কি তার অপরাধ যে তিনি, দেশ ও মানুষকে হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছিলেন? মানবতার সেবায় নিয়ে উৎসর্গ করেছিলেন। ভোগ, বিলাসের জীবন বা মুনাফা লুটার মনোভাব তাকে টানেনি এটাই তার অপরাধ? মানব সেবা যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তবে তিনি অপরাধ অব্যাহত রাখবেন। এই অপরাধে তার পাশে দাঁড়াবে গোটা দেশ ও মানুষ। আমাদের এম আর খান নেই, আমাদের জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলাম চলে গেছেন। প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মরহুম আব্দুল খালেক কোনো প্রকশনা রেখে যাননি। এ বি এম আবদুল্লাহ ভবিষ্যত চিকিৎসকদের জন্য তার জ্ঞানের পরিধি লিপিবদ্ধ করে যাচ্ছেন। হাতে কলমে চিকিৎসা ও মানবতা সেবার পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন। দেশের বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর চিকিৎসা শাস্ত্রের দু’টি সহায়ক গ্রন্থ এখন বিশ্বের ৩০টি দেশে প্রকাশ করা হচ্ছে। দেশের বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা: এবিএম আব্দুল্লাহ লিখিত চিকিৎসা শাস্ত্রের ওপর ৪টি গ্রন্থ দুটি আন-র্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রকাশ করেছে। এই ৪টি গ্রন্থের মধ্যে দু’টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা গ্রন্থ প্রকাশক এলসেলভিয়ের। ব্রিটিশ, মার্কিন ও জার্মান ভিত্তিক এই প্রকাশনা সংস্থাটি বাংলাদেশের কোন চিকিৎসা বিজ্ঞানীর বই প্রথম প্রকাশ করলো। গ্রন্থ দু’খানি হচ্ছে শর্ট কেস ইন ক্লিনিক্যাল মেডিসিন ও রেডিওলজি ইন মেডিক্যাল প্রাকটিস-এর ওপর। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই গ্রন্থ দু’খানি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিলিপিন, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ৩০ থেকে ৪০টি দেশে বাজারজাত করছে। বাংলাদেশের কোন চিকিৎসকের জন্য এটা এক বিরল সম্মানের। অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহর অপর দু’টি চিকিৎসা শাস্ত্রের ওপর গ্রন্থ হচ্ছে ইসিজি ইন মেডিক্যাল প্রাকটিস এবং কেস হিস্ট্রি এবং ডাটা ইন্টারপিটেশন ইন মেডিক্যাল প্রাকটিস। এ দু’টি গ্রন্থ প্রকাশ করছে ভারতের বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা জায়পি। গ্রন্থ চারখানির লেখক অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ দেশের একজন স্বনামধন্য মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং তিনি যুক্তরাজ্য থেকে মেডিসিনের ওপর এমআরসিপি ও এফআরসিপি লাভ করেন। অত্যন্ত সহজবোধ্য ইংরেজী ভাষায় রচিত লেখকের প্রধান দু’খানি চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থের প্রকাশক এলসেলভিয়ার-এর মতে ইতিমধ্যেই অধ্যাপক আব্দুল্লাহ’র মেডিসিন ও ইমেজিং-এর ওপর গ্রন্থ দু’টি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে সরবরাহকৃত এসব বই বিক্রয় হয়ে গেছে। অচিরেই এসব গ্রন্থ বাংলাদেশে পাওয়া যাবে। মেডিসিনের ওপর লেখা অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ’র সহায়ক গ্রন্থ শর্ট কেস ইন ক্লিনিক্যাল মেডিসিন গ্রন্থখানির বিশেষত্ব হচ্ছে, শরীরের বিভিন্ন সাধারণ রোগ সম্পর্কে অত্যন্ত সহজ ভাষায় লেখা হয়েছে। রোগের বর্ণনা, রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, জটিলতা এবং চিকিৎসার অত্যন্ত সাবলীল বর্ণনা স্থান পেয়েছে। বইটিতে ৬ থেকে ৭ শতটি রোগ বিষয়ক ছবি স্থান পেয়েছে। লেখক অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ শুধু একজন স্বনামধন্য মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নন, তিনি ডেঙ্গুজ্বর-এর আধুনিক চিকিৎসার অন্যতম প্রবর্তক। লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

পাঠকের মন্তব্য (0)

সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময়সূচী

ওয়াক্ত সময় শুরু
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৫
আসর ১৫:০৪
মাগরিব ১৭:৩২
এশা ১৮:৪৮
সূর্যোদয় ০৫:৫৮
সূর্যাস্ত ১৭:৩২
তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০১৭