শিরোনাম :
-->
English
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭ ইং

প্রচ্ছদ » সাকà§�ষাৎকার !!

ডা. রেজাউল করিম।।

ধিক! সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের সব লাঠিয়াল সর্দারদের

24 May 2017 01:36:08 AM Wednesday BdST

বেশ ক বছর আগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রফেসরের সফর সংগী হয়েছিলাম। তিনি রোটেশনাল পদ্ধতিতে নিজ বিভাগের চেয়ারম্যানও ছিলেন। বাকপটু, সারাক্ষণ আসর নিজের দখলেই রাখতে পছন্দ করেন। উনি বলেছেন সারাক্ষণ, আমরা চুপ মেরে ছিলাম। তো হলো কি, আমাদের বহনকারী মাইত্রুোটি সামনের এক প্রাইভেট কারকে সজোরে দিল ধাক্কা। বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি তবে প্রাইভেট কারের পেছনের বাম্পারটা খুলে পড়ে যায়। এ অবস্থায় যা হবার তাই হলো। দু পক্ষের বচসা, সমঝোতার চেষ্টা। সমঝোতা বনাবনি না হওয়ায় পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছিল, চ্যাংড়া কার ড্রাইভার গাড়ির লেজ থেকে খসে পড়া বাম্পার হাতে নিয়ে লাফাইতে লাফাইতে আমাদের গাড়ির দিকে বিপদজনকভাবে তেড়ে আসতেছিল। তাই দেখে আমরা কিঞ্চিৎ আতংক বোধ করছিলাম। এ অবস্থায় প্রফেসর সাহেব গাড়ি থেকে নেমে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হলেন। তিনি উদ্যত যুবক কে এই বলে শাসিয়ে দিলেন যে, “এই পোলা, ব্যঙ এর মতো লাফাচ্ছ কেন, আমারে চিনস, আমি হলাম লাঠিয়ালদের সর্দার, সর্দার অমুক ভার্সিটির প্রফেসার, কারে তুমি লাঠির ভয় দেখাও, একবার ইশারা করলেই হবে, গাড়ি শুদ্ধা উঠায়া নিয়ে যাবে”। এক ধমকেই কাজ হলো। পরিস্থিতি আয়ত্বে এলো। একটা সমাধান ও হলো। প্রফেসার সাহেব গাড়িতে উঠে এলেন বিজয়ীর বেশে। আমাদের উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেন, ‘কত গুন্ডা পান্ডা সোজা করে ফেলছি, এ সব সোলেমান-লোকমানদের শায়েস্তা করা কিছুই না! আমরাও সূর মেলালাম, অবশ্যই, অবশ্যই। পরে জানলাম এই বিজয়ী বীরের নানান কাহিনী। তিনি তার কথিত ‘লাঠিয়াল বাহিনী’র প্রত্যক্ষ অপ্রত্যক্ষ সহযোগীতায় অনেক জায়গা-জমি দখল করেছেন, অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন। আমাদের দেশে এটা একটা কমন চিত্রনাট্য এখন। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কম বেশি এই পদেরই লাঠিয়াল প্রধান আছেন যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ পদবি ও ব্যক্তিগত নানান সুযোগ সুবিধা অর্জনের জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করেন। তিনি প্রক্টর, ভিসি যে-ই হোন না কেন। সংগত কারণেই ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণ করার মতো যথেষ্ট নৈতিক ক্ষমতা তাদের থাকার কথা না। তারা সংখ্যায় কম, তবুও তারা হর্তাকর্তা, সব কিছুরই অধিপতি। সোমালিয়ার জলদস্যু কর্তৃক প্রায়ই ভূমধ্যসাগরের মালবাহি জাহাজ আক্রান্ত হয়, তারা নাবিকদের পণবন্দী করে, বাংলাদেশী জাহাজের নাবিকদেরও পণবন্দী করেছিল। সমুদ্র দাপিয়ে বেড়ানো এসব দস্যূদেরকে সেদেশের সংসদ ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও এ রকম কিছু দস্যু বীর আছে যারা আশেপাশে ত্রাস চালায় আর তাদের সর্দাররা তাদের বীরত্বের জন্য গর্ববোধ করেন। তাদের পক্ষ হয়ে আদালতে ছুটে যান। ধিক! সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের এ সব লাঠিয়াল সর্দারদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিকালের অর্জন নিয়ে আমরা প্রায়ই জাবর কাটি, তৃপ্তির ঢেকুর তুলি। সে অর্জনকে উত্তর সময়ের এসব অধম ছাওয়ালরা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। গত ত্রিশ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমান এমন কোন অর্জন আছে কি উল্লেখ করার মতো? হ্যাঁ আছে, সন্ত্রাস, ছিনতাই চাঁদাবাজিতে তারা বার বার পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। তাদের হলে রেইন ট্রি হোটেলের মতো ঘটনার কথাও পত্রিকার মারফত জেনেছিলাম এক সময়। চিন্তা করে দেখুন এরাই কিনা বিশজন ডাক্তারকে পড়ার জ্ঞান রাখে। তারা সবাইকে জ্ঞান দিয়ে বেড়াচ্ছে আর মিডিয়া তাদেরকে প্রমোট করছে। ডাক্তাররা ভুল শুদ্ধ যাহাই করুন না কেন এখনো পর্যন্ত এ সেকটরটাই আমাদের দেশে সবচেয়ে উজ্জ্বল। আমরাই এম ডি জি অর্জন করেছি যার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্র্রী পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। মানুষের গড় আয়ু আজ সত্তরের কাছাকাছি। এতবড় একটা অন্যায়ের স্বীকার হয়েও নিরীহ চিকিৎসক সমাজ আজ কারাগারে। সরকার বি এম এ কারোরই মনে হয় এ ব্যাপারে করার কিছুই নাই। আজ যদি মন্ত্রণালয় বা সচিবালয়ের কোন গাড়ি ভাংচুর হতো তাহলে দেখা যেত চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই গ্রেফতার পর্ব শেষ করে কালপ্রিটদের রিমান্ড পর্ব শুরু হয়ে যেত। ডাক্তার সমাজ নিরীহ প্রজাতির। তাদের মেরুদন্ডে কিছুটা সমস্যা আছে এটা কমবেশী সবাই জানে, এজন্য ছাত্র-মাস্তান-পাড়াত ভাই-অন্যান্য পেশাজীবি যে কেউ ডাক্তারদের কে ‘লাথির কাঁঠাল’ বানাতে দ্বিধা করে না। তুলতুলে কোল বালিশের মতো টেপাটেপি করে যখন-তখন সুখ নিতে চায় তারা। ধরেন এইরকম ভাঙচুর ও মারধর যদি আলু-বেগুন মার্কা পত্রিকার অফিসে হতো তাহলে পত্রিকাওয়ালারা দেখিয়ে দিত পেশাগত ঐক্য কি জিনিস। দেশের এক জাঁদরেল রাজনীতিক আলু পত্রিকার এক জেলা লেবেলের রিপোর্টারকে মেরে হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছিল। সে পত্রিকা কি করেছে তা সবাই জানেন। তারা ঐ রাজনৈতিক নেতাকে একেবারে বলা যায় ‘রাজনৈতিক হিজড়া’ বানিয়ে ছেড়েছে। পি এম এর ব্যক্তিগত চিকিৎসক সহ দেশের সেরা ডাক্তাররা খুনির আসামী, আমাদের পেশাজীবি নেতারা কি করবেন ভেবে কুল পাচ্ছেন না। পেশাজীবি হিসেবে পেশার স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের উপরে তুলতে ব্যর্থ হলে দাবি আদায়ের আন্দোলন ব্যর্থতার পথে হাঁটতে বাধ্য। আমরা আর মার খেতে চাই না। আমরা কোন ব্যর্থ আন্দোলন চাই না। আমরা আই ওয়াশের কোন আন্দোলন চাই না। আমরা ঐক্যবদ্ধ জোরালো আন্দোলন চাই। আমরা সফল আন্দোলন চাই। আমরা দোষীদের গ্রেফতার চাই। মান সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই।

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

পাঠকের মন্তব্য (0)

সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময়সূচী

ওয়াক্ত সময় শুরু
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৪
আসর ১৫:০১
মাগরিব ১৭:২৭
এশা ১৮:৪৩
সূর্যোদয় ০৬:০১
সূর্যাস্ত ১৭:২৭
তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১৭