শিরোনাম :
-->
English
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ইং

প্রচ্ছদ » শিকà§�ষা !!

স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারছে না ১৩ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

26 May 2017 12:00:45 AM Friday BdST

বেধেঁ দেয়া সময়ের মধ্যেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারছে না ১৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ, এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ কাজ এখনো চলমান রয়েছে। ফলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরেক দফা সময় দিতে যাচ্ছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তরে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের শর্ত জুড়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) চেয়ারম্যানদের চিঠি দেয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত কমিটি প্রাথমিক একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির দ্বিতীয় দফার প্রতিবেদন বলা হয়েছে, কমিটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন স্থায়ী ক্যাম্পাস সরেজমিন পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে কমিটি অবকাঠামোগত নির্মাণ অগ্রগতি অবলোকন ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ব্যস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তরের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে। পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্য এবং সার্বিক বিষয় পর্যালোচনাপূর্বক কমিটি মন্ত্রণালয়ে গত ১৫ মে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, আমেরিকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ দৃশ্যত সম্পন্ন হওয়ায় ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব শিক্ষা কার্যক্রম স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিওটি চেয়ারম্যানকে নির্দেশনার সুপারিশ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তরে ব্যর্থ হলে ১ অক্টোবর থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখার মতামত দেওয়া হয়েছে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে সময় বাড়ালেও তা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চলমান দীর্ঘমেয়াদি টানাপড়নের মাত্রা আরও আশঙ্কাজনক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো এতে শিক্ষার্থীর বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরিচালক (পাবলিক রিলেশন) আবু সাইদ বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি আশুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের ৩৮ হাজার বর্গ ফুটের ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। সম্প্রতি ইউজিসির কর্মকর্তারা সরেজমিন ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে ১০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত ক্যাম্পাসের মাস্টার প্ল্যান অনুমোদনের জন্য রাজউকে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত অনুমোদন দেয়নি। মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে সব কার্যক্রম পরিচালনা করা দুষ্কর। তারপর সরকারের নির্দেশ মানতে আমরা প্রস্তুত। তবে শিক্ষার্থীরা গুলশানের ক্যাম্পাস দেখে ভর্তি হয়েছিলেন। মিরপুর ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের যত সহজে আশুলিয়ার ক্যাম্পাসে নেওয়া গেছে গুলশানের শিক্ষার্থীদের নেওয়া ততটা কঠিন হবে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং প্রাইম ইউনিভার্সিটিকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও ১ জানুয়ারি একই ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিপূর্ণ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে না মন্তব্য করে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পরিচালক (পাবলিক রিলেশন) সাইদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের ইউনিভার্সিটির বয়স বেশিদিন হয়নি। মাত্র একটি ভবনের একতলার নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ভবন নির্মাণকাজ শেষ হতে আরো সময় লাগবে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়কে যেভাবে সময় দেওয়া হয়েছে সেভাবে তিনিও সময় দেওয়ার দাবি জানান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউএসটিসি) রাজধানীর সেন্ট্রাল রোড এবং সিটি ইউনিভার্সিটির পান্থপথের আউটার ক্যাম্পাস বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যে তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিওটিকে নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। এতে ব্যর্থ হলে ১ অক্টোম্বর থেকে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। ইউজিসি তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুরনো ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এখনো ৩৯টি পুরোপুরিভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। তবে কেউ কেউ আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় জমি কিনেছে। পূর্ণাঙ্গভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে মাত্র ১২টি। ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেনি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ২০১০ সালের আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। ওই আইন প্রণয়নের আগে দেশে ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু করে। আইন পাস হলে ওই বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তখন মন্ত্রণালয় ‘রেড অ্যালার্ট জারি’ করে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় দেয়। মন্ত্রণালয় ২০১২ সালে দ্বিতীয় দফায়, ১৪ সালে তৃতীয় আর ১৫ সালের জুনে চতুর্থ দফায় সময় দেয়। চতুর্থ দফার মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

পাঠকের মন্তব্য (0)

সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময়সূচী

ওয়াক্ত সময় শুরু
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৫
আসর ১৫:০৪
মাগরিব ১৭:৩২
এশা ১৮:৪৮
সূর্যোদয় ০৫:৫৮
সূর্যাস্ত ১৭:৩২
তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০১৭