শিরোনাম :
-->
English
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ইং

প্রচ্ছদ » রাজনীতি !!

কুলাউড়ায় মসজিদ-মন্দিরের সরকারি বরাদ্দ আ’লীগ নেতার পকেটে

02 Jul 2017 12:20:04 PM Sunday BdST

জেলার কুলাউড়া উপজেলায় অস্তিত্বহীন মসজিদ, মন্দিরের ভুয়া কমিটি, নামসর্বস্ব সামাজিক ক্লাব-সংগঠন দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ নিজ পকেটে ঢুকাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা ও স্থানীয় এক ইউপি সদস্য। উপজেলার বরমচাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ চৌধুরী তুতি এবং চন্দন কুর্মি নামের স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ২৯ জুন বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর টাকা আত্মসাতের এমন অভিযোগ করেছেন বরমচাল চা বাগানের চা শ্রমীক এবং বরমচাল পরিবহন শ্রমীক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও অভিযোগ করেছেন মহলাল সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি-সম্পাদক। লিখিত অভিযোগ থেকে এবং সরেজমিনে তদন্ত করে জানা যায়, ২০১৬-২০১৭ সালের অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির ২য় পর্যায়ে কুলাউড়া উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মোট ৬৭ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪ শত ৫৮ টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নে ৮ টি প্রকল্পে মোট ৫ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বরাদ্দকৃত প্রকল্পের মধ্যে কোনাগাঁও জামে মসজিদ উন্নয়ন প্রকল্পে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যদিও ওই নামে কোনো মসজিদের অস্তিত্ব বরমচাল ইউনিয়নে নেই। এছাড়া কালামিয়া বাজার জামে মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। এই নামেও কোনো মসজিদ খোঁজে পাওয়া যায়নি। বরমচালের কালামিয়ার বাজারে একমাত্র মসজিদ হচ্ছে ‘বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ’। এই মসজিদ কমিটির মোতাওয়াল্লী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইছহাক চৌধুরী ইমরান সোলার প্যানেলের জন্য বরাদ্দ সম্পর্কে কিছুই জানেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান। এছাড়াও বরমচাল চা বাগানে অবস্থিত ‘শ্রী শ্রী কৃষ্ণ মন্দির উন্নয়ন’ প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। ওই মন্দিরের সভাপতি সম্ভু বাউরী ও সাধারণ সম্পাদক সুকুমার পাত্র এবং সাবেক বাগান পঞ্চায়েত স্থানীয় মুরব্বী গৌরা কুর্মি, অতুল কর্মকার মন্দির উন্নয়ন বরাদ্দের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তারা জানান, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য অনন্ত লালের সহযোগীতায় এই মন্দির কমিটির অধীনে এর আগে ২ বার সরকারি বরাদ্দ পেয়েছিলাম। কিন্তু এবার আমরা কিছুই জানি না। এদিকে সোলার প্যানেল স্থাপনে বরাদ্দকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে বরমচাল চা বাগানের ৫ জনের মধ্যে ৪ জনই জানে না তাদের নামে বরাদ্দ হয়েছে। সুনু মির্ধা, খোকন বাড়াইক, মনোহর কুর্মি, ভুলা কুর্মি জানান, সপ্তাহ দিন আগে সোলার প্যানেল পাব বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য চন্দন কুর্মি তাদের ভোটার আইডির ফটোকপি নিয়েছেন। এরপর আর কোনো খবর নেই। এদিকে, প্রায় মাস আগে অন্য একটি সরকারি বরাদ্দে বরমচাল চা বাগানে ১৫ টি সোলার প্যানেল স্থাপনে বরাদ্দকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের ঘরে বিদ্যুৎ থাকা সত্বেও সোলার স্থাপন, আবার অনেকের (দিনমজুর) কাছ থেকে উৎকোচ (কারো কাছ থেকে ১০০০ আবার কারো কাছ থেকে ২৫০০ টাকা) গ্রহণ করে সোলার প্যানেল স্থাপন করে দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য চন্দন কুর্মি। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দকৃত প্রকল্পে ঘুষের বিনিময়ে শ্রমীকদের বরাদ্দ দেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বরমচালের ৮ টি প্রকল্পের মধ্যে ‘মহলাল সমাজ কল্যাণ ক্লাব’ নামক সংগঠনের বাস্তবে সভাপতি-সম্পাদক এক আর বরাদ্দে সভাপতি-সম্পাদক দেখানো হয়েছে অন্যদের। ভুয়া সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দেখিয়ে বরাদ্দ তুলে আনায় স্থানীয় পর্যায়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সংগঠনের উপদেষ্টাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। এরই মধ্যে উপজেলাব্যাপী বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ওই সংগঠনের সভাপতি আবুল হাসান মাফি এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ তাহলিল জানান, আমরা গরিব-মেহনতী মানুষের মাঝে ঈদ বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণের উদ্দেশে বরাদ্দ চেয়েছিলাম। কিন্তু উপজেলা পরিষদে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমাদের না জানিয়ে কে বা কারা টাকা উত্তোলন করে ফেলেছে। এবিষয়ে আমরা ইউএনও বরাবর অভিযোগ দেব। এছাড়াও নামসর্বস্ব শ্রমিককল্যাণ ক্লাবের বাস্তব অস্তিত্ব খোঁজে পাওয়া যায়নি। বরমচালের শ্রমীকদের একমাত্র সংগঠন বরমচাল পরিবহন শ্রমীক ইউনিয়ন (রেজিঃ ২৩৫৯)। এই সংগঠনের নির্বাচিত সভাপতি আব্দুছ ছালাম ও সাধারণ সম্পাদক বাবেল আহমদ ওই বরাদ্দের টাকা শ্রমীকদের দাবি করে জানান, উপজেলা পরিষদে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি কে বা কাহারা শ্রমীকদের নাম বিক্রি করে টাকা উত্তোলন করে ফেলেছে। আমরা ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। শ্রমীকদের ন্যায্য বরাদ্দ যদি সটিকভাবে না পাই তবে আমরা আন্দোলনে নামবো। ক্লাবগুলোর কমিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলার পিআইও কর্মকর্তা আব্দুল খালেক জানান, এগুলো তুতি (আব্দুর রউফ চৌধুরী তুতি) ভাই দিয়েছেন, আমরা তো কইতে পারতাম না। সোলার প্যানেল স্থাপনে উৎকোঁচ নেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য চন্দন কুর্মি জানান, আমি টাকা উত্তোলন করি নি। তাছাড়া বাগানের মুরব্বী দেবনারায়ণ কুর্মি ও তুতি (আব্দুর রউফ চৌধুরী) চাচারা আইসা আমারে বলেন যে তোমার এলাকায় এতোটা সোলার আইসে সঠিকভাবে এগুলো লাগানোর ব্যবস্থা কর। আমি এগুলো ধরিও না, দেখিও না। তারা কোম্পানির লোক সিএনজি দিয়ে এসে লাগিয়ে দিয়ে যায়। অভিযোগের ব্যাপারে বরমচাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ চৌধুরী তুতিকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মোহাম্মদ গোলাম রাব্বীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে বিহীত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্তে প্রমাণ পেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি যেই হোন না কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অস্তিত্বহীন মসজিদ, মন্দির, ক্লাব উন্নয়নে বরাদ্দ সম্পর্কে জানতে সংসদ সদস্য আব্দুল মতিনের সাথেও মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

পাঠকের মন্তব্য (0)

সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময়সূচী

ওয়াক্ত সময় শুরু
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৫
আসর ১৫:০৪
মাগরিব ১৭:৩২
এশা ১৮:৪৮
সূর্যোদয় ০৫:৫৮
সূর্যাস্ত ১৭:৩২
তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০১৭