শিরোনাম :
-->
English
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ইং

প্রচ্ছদ » জাতীয় !!

একটি পরিবারের সব হারানোর কাহিনী

15 Sep 2017 10:37:40 PM Friday BdST

এ নির্মমতার শেষ কোথায়- জানেন না রুয়াইদা ও জামাল। ভাইবোন তারা। রাখাইনে বেশ ভালোই ছিলেন। কিন্তু বর্মীদের আগুন-লুটপাট তাদের দুজনকেই নিঃস্ব করে দিয়েছে। রুয়াইদার চোখের সামনেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তার বুকের ধন শহীদ। মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে পারলেও মৃত ছেলেকে ফেলে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু তার মন যে পড়ে রয়েছে জন্মভিটায়। ছেলের নানা স্মৃতি স্মরণ করে চিৎকার করে উঠছেন। ঘটনার ১৪ দিনেও স্বাভাবিক হতে পারছেন না রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওই নারী। রুয়াইদার বড় ভাই জামালের জীবনে ঘটে গেছে এক বিশাল ট্র্যাজেডি! স্ত্রী-সন্তানকে বাড়িতে রেখে রাখাইনের মংডু আলী তাইনজু বাজারে নিজের দোকানে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। ঈদের দু’দিন আগের ঘটনা। বর্মীরা তার দোকান লুট করে নেয়। পরে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি কোনো মতে প্রাণে বেঁচে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু আজও আদরের ৩ কন্যা আর প্রিয়তমা স্ত্রীর দেখা পাননি। দোকান লুটপাটের পর বাড়ির পথে রওনা করেছিলেন জামাল। কিন্তু পৌঁছাতে পারেননি। পথেই শুনতে পান তার বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে বর্মী যুবকরা (স্থানীয়ভাবে মগ বলে পরিচিত)। গ্রামে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছে আর্মিরা। বাড়ির লোকজন যে যার মতো করে পালিয়েছে। অনেকে হতাহত হয়েছে। গুরুতর আহত অনেকে ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। জামাল জঙ্গলে লুকিয়ে ছিলেন। ঘটনার ৪ দিন পর্যন্ত বার্মায় ছিলেন তিনি। সেখানে দিনে জঙ্গলে কাটালেও রাতে রাস্তায় বেরিয়ে নানা কায়দায় খোঁজাখুঁজি করেছেন স্ত্রী-সন্তানদের। সীমান্তের এপারে খোঁজ নিয়েছেন। টেকনাফে  নিজের ভাই ও মা  আর কক্সবাজারে বোনের সন্ধান পেয়েছেন। কিন্তু নিজের স্ত্রী আর ৩ কন্যার খোঁজ পাননি। বাংলাদেশে এসেও জামাল প্রায় প্রতিদিনই ছুটছেন সীমান্তে। যেখানে রোহিঙ্গার ঢল। যদি তার স্ত্রী-সন্তানের দেখা পাওয়া যায়। না প্রতিদিনই ফিরে আসছেন শূন্য হৃদয়ে। কক্সবাজার শহরের ১নং ওয়ার্ডের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ায় রুয়াইদার সঙ্গে তার জা’য়ের বাসায় অস্থায়ী আশ্রয়ে ছিলেন জামাল। গত বুধবার ভাইবোন দুজনই চলে গেছেন উখিয়ার বালুখালি এলাকায়। মঙ্গলবার মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়া মসজিদের কাছে একটি ফার্মাসিতে কথা হয় জামাল হোসেন ও বোন  রুয়াইদার সঙ্গে। জামাল বলেন, ভাই আমার সব শেষ করে দিয়েছে হিতারা (বর্মী, মগরা)। স্ত্রী, ৩ কন্যা ছিল আমার। ছোট মেয়েটা ঈদের ৪দিন আগে জন্মেছে। আকিকা দেইনি বলে নামও রাখতে পারিনি। এরা আছে না মরেছে তাও খোঁজ পাচ্ছি না। জামাল হোসেন জানান, আলী তাইনজু বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নাক্ষ্যংদিয়া মদিনা পাড়ায় তার বাড়ি। বাজারে তার মোবাইল যন্ত্রাংশের দোকান ছিল। সব লুট করে নিয়ে গেছে মগ যুবকরা। রুয়াইদা ও জামাল কিভাবে প্রাণে বেঁচেছেন, কোন পথে বাংলাদেশে ঢুকেছেন এবং পথের কষ্টগুলোও শেয়ার করেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন রুয়াইদার শ্বশুর নুরুল ইসলাম ও জা মাহমুদা। মাহমুদা বাংলাদেশে আছেন ১৪ বছর ধরে। তার স্বামী থাকেন মালয়েশিয়ায়। রুয়াইদা জামালসহ ১৪ জন নবাগত রোহিঙ্গা এখন তার জিম্মায় রয়েছেন। মাহমুদা জানান, তার জা রুয়াইদার সবই ছিল। মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামীর আয়ে সুন্দর একটি বাড়ি ছিল। মংডু আলী তাইনজু ওয়াইশা পাড়ায় ছেলে আর মেয়েকে নিয়ে বেশ ভালোই ছিল তার জীবন-সংসার। অর্থনৈতিকভাবেও সচ্ছল ছিলেন তিনি। কিন্তু আজ তার কিছুই নেই। মগদের আগুন তার সব শেষ করে দিয়েছে। ওই আগুনে পুড়ে মরে গেছে তার ছেলেটা। মেয়েটাকে রক্ষা করতে পেরেছেন রুয়াইদা। তবে মগ যুবকদের হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা কেটেছে তার পুরোটা পথ। মংডু আলী তাইনজু, ওয়াইশা পাড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ। প্রায় ১৪ কিলোমিটার। দিনে লুকিয়ে আর রাত কেটেছে হাঁটা আর দৌড়ের মধ্যে। সঙ্গে বৃদ্ধ শ্বশুরসহ পরিচিত-অপরিচিত ১৪ জন। এক সঙ্গেই তাদের পাড়ি দিতে হবে দরিয়া, বঙ্গোপসাগর। তবেই তারা নিরাপদ। রুয়াইদার শ্বশুর নুরুল ইসলাম বয়োবৃদ্ধ। তবে চলাফেরা করতে পারেন। সন্তান হারানোর কষ্টে থাকা ছোট ছেলের বৌকে পুরোটা পথ সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেছেন নুরুল ইসলাম। কিন্তু সে কী হয়? মায়ের মন। শুধুই কেঁদেছেন সন্তানের জন্য। পথে বহুবার অসুস্থ হয়েছেন। এখনো তিনি অসুস্থ। জানালেন জা মাহমুদা ও শ্বশুর নুরুল ইসলাম। জামাল বললেন, ‘বোনের দিকে তাকিয়ে আমি আমার কষ্ট ভোলার চেষ্টা করি। কিন্তু পারি না ভাই।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ভাই ছোট্ট মণিটার আজ ২০ দিন হতো। ওর জন্যই বেশি মন কাঁদছে। বড় মেয়ে উমা আমিন এবং মেজো মেয়ে সুরমা আমাকে অনেক আদর করতো।’

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

পাঠকের মন্তব্য (0)

সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময়সূচী

ওয়াক্ত সময় শুরু
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৫
আসর ১৫:০৪
মাগরিব ১৭:৩২
এশা ১৮:৪৮
সূর্যোদয় ০৫:৫৮
সূর্যাস্ত ১৭:৩২
তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০১৭