শিরোনাম :
-->
English
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ ইং

প্রচ্ছদ » ��������������������� !!

শীতেই গরম হচ্ছে রাজনীতি, খালেদার পাল্টা সফরে যাচ্ছেন হাসিনা

08 Nov 2017 12:11:05 PM Wednesday BdST

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তৎপর হয়ে উঠছে রাজনৈতিক দলগুলো। অত্যাসন্ন শীতে গরম হবে রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রধান দুই দলই ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজনীতির মাঠ নিজেদের আয়ত্তে রাখতে। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অনড় আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে সারাদেশে নানা প্রক্রিয়ায় নির্বাচনপূর্ব সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর নড়েচড়ে ওঠে নির্বাচনকালীন 'নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারে'র অধীনে নির্বাচনের দাবিতে প্রয়োজনে আন্দোলনে নামার কথা বলছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির যে কোনো কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে আওয়ামী লীগের।

এদিকে শিগগির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিভাগীয় শহর সফরে যাবেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে ভোট চাইবেন; নেতাকর্মীদের ভোটের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং বিএনপির তৎপরতা সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান জানাবেন। অন্যদিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের পক্ষে জনমত গড়তে চাইবেন বিএনপি নেত্রী। 

বড় এ দুই রাজনৈতিক দলের বাইরে বসে নেই অন্য ছোট-মাঝারি সংগঠনগুলোও। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নতুন জোট করে মহাজোটের বাইরে পৃথকভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিবন্ধন বাতিল হলেও গোপনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। ১৪ দলীয় জোট ও ২০ দলীয় জোটের বাইরের দলগুলোও নতুন একটি নির্বাচনী প্ল্যাটফর্ম গড়তে দফায় দফায় বৈঠক করছে। তাই আভাস মিলছে নির্বাচনের এক বছর আগে এবারের শীত মৌসুম থেকেই রাজনৈতিক আবহ গরম হয়ে ওঠার।

নির্বাচনকালীন সরকার-সংক্রান্ত অবস্থানে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই কঠোর অবস্থান বজায় রাখলে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে রাজপথ। তবে যে কোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণাও রয়েছে বিএনপির। আর বিএনপি নির্বাচনে আসবে- মাথায় নিয়েই প্রস্তুত হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ সমকালকে বলেন, আগামী কিছুদিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সফরকেন্দ্রিক গণসংযোগ কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দিলে তাদেরই লাভ হবে। বিএনপি দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে তুলে ধরবে, সরকার তাদের বাধা দিচ্ছে, নিরাপত্তা দিতে পারছে না। আর বিএনপি নির্বাচনে যাবে ধরে নিয়ে আওয়ামী লীগও তাদের কোণঠাসা করতে রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে চেষ্টা করবে। শেষ পর্যন্ত দুই দলই খুব সতর্কতার সঙ্গে মাঠে সক্রিয় থাকবে। মনে হচ্ছে, বড় সহিংস কর্মসূচি ছাড়াই রাজনৈতিক অঙ্গন কিছুটা সরব হবে।

সতর্ক আওয়ামী লীগ :বিশ্নেষকরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার কক্সবাজার সফরে বিপুল জনসমাগম দেখার পর আওয়ামী লীগ তাদের প্রচারের নীতি-কৌশল ঢেলে সাজাতে পারে। বিএনপি এর মধ্য দিয়ে তাদের জনপ্রিয়তা ও শক্তি সম্পর্কে জাতির কাছে একটি বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছে তারা। তাই তারাও চাইছে জনসমাগমের মতো বড় কর্মসূচি দিয়ে পাল্টা বার্তা দিতে। এ জন্য দলটি বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকার কৌশল নিয়েছে। 

এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্বঐতিহ্যের দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উপলক্ষে দলটি দেশজুড়ে সাত দিনের কর্মসূচি নিয়েছে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তারা। আগামী ১৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশের মাধ্যমে বড় ধরনের জনসমাগম ঘটাতে চলছে দলটি। 

আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৃণমূল সফরের কর্মসূচি আবার শুরু হচ্ছে। সফরকালে বিভিন্ন জেলায় তিনি সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচি উদ্বোধনের পাশাপাশি জনসভা করবেন। এরই মধ্যে নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আগাম প্রচারে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন দলটির বিভিন্ন জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর এসব জনসভা ও নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান এই প্রচারণাকে আরও জোরদার করে তুলবে। 

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় শেখ হাসিনা নতুন-পুরনো সব মনোনয়নপ্রত্যাশীকে নিজ নিজ এলাকার ঘরে ঘরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও তাই ছুটছেন নির্বাচনী এলাকায়। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল মেটানো, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে জরিপ এবং নির্বাচনী ইশতেহারের খসড়া তৈরির কাজও চালাচ্ছে এ দল। 

অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবেলায়ও প্রস্তুতি রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ লক্ষ্যে আগামী শীত মৌসুমে রাজধানীসহ সারাদেশে নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে দলটি। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিএনপির আন্দোলন মোকাবেলা করা না গেলে আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে। আন্দোলন বিগত দিনের মতো সহিংস হয়ে উঠলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোরভাবে মোকাবেলার চিন্তাও মাথায় রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের। 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলছেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে একাত্তর ও পঁচাত্তরের খুনিরা তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তবে মনে রাখতে হবে, ১৯৭৫, ২০০৪ আর ২০১৭ এক নয়। আওয়ামী লীগ এখন অনেক বেশি সচেতন ও সতর্ক। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে- এই হিসাব করেই দলের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান রাখছেন তিনি।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ সমকালকে বলেন, বিএনপি মাঠ গরম করার মতো কোনো কর্মসূচি দিলে আওয়ামী লীগও বসে থাকবে না। তারা পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে তা মোকাবেলা করবেন।

জনমত গড়তে মাঠে নামবে বিএনপি :লন্ডন থেকে দেশে ফিরেই রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোহিঙ্গাদের ত্রাণসামগ্রী দিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে কক্সবাজার সফরের মাধ্যমে নির্বাচনমুখী তৎপরতা শুরু করেছেন তিনি। দলের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি বলা না হলেও রাস্তায় রাস্তায় বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা ও সমর্থন প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে এ দল। এসব জনসমাগমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবি ও ব্যানারে নির্বাচনের আমেজই পরিলক্ষিত হয়। মামলা-মোকদ্দমা থাকলেও কর্মীদের রাজপথে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন নেতারা। এরই অংশ হিসেবে ঘটনাবহুল ৭ নভেম্বরকে 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে পালনে ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি। এ সময় রাজধানীতে বড় একটি শোডাউনের লক্ষ্যে আগামী ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে বিএনপি। সোহরাওয়ার্দীতে অনুমতি না পেলে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশের অনুমতি চাইবেন তারা। ছয় সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ করেও রাজনৈতিক মাঠ গরম করতে সক্রিয় থাকবে বিএনপি। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে ইসি ও সরকারের ভূমিকা দেখে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। 

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রৃপরেখার খসড়াও দলটি তৈরি করেছে। এ রৃপরেখা ঘোষণা করা হবে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে 'উপযুক্ত' সময়ে। সহায়ক সরকারের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে গণসংযোগমূলক কর্মসূচি নেবে বিএনপি। শিগগির বিভাগীয় মহানগরগুলোতে সফরে যাবেন খালেদা জিয়া। এসব সভা-সমাবেশে বাধাবিঘ্ন ঘটলে প্রতিবাদে রাজপথের কর্মসূচি দেবে দলটি। পাশাপাশি দেশব্যাপী দল পুনর্গঠন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন, জরিপের মাধ্যমে যোগ্য সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর খসড়া প্রণয়নের কাজও চালাচ্ছেন তারা। 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে জানান, আগামী নির্বাচনের জন্য তারা সার্বিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দল গোছানোর পাশাপাশি সংলাপে দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন ও সরকার কী করে- তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বিএনপি। তারা আশা করেন, সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবে। অন্যথায় আন্দোলন ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

নতুন জোট গঠনে তৎপরতা :নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে তৃতীয় আর একটি জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য এ জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন বিকল্পধারার সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এ জোটে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বঙ্গবীর আবদুর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ, আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যের। জোট গঠন করে তারা দরকষাকষির মাধ্যমে হয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটে না হয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যেতে পারেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আগামী দু'তিন মাসের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন এই জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কৌশলী ভূমিকা নিয়ে মাঠে নামবে এ জোট। জামায়াতে ইসলামীর কারণে সরাসরি ২০ দলীয় জোটে যোগ না দিলেও পৃথক মঞ্চ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের মাঠে থাকতে পারে এ জোট। এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মান্না সমকালকে জানান, নতুন একটি জোট করতে তারা বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছেন। জোটে আসতে আগ্রহী দলের নেতারা নিজ নিজ মনোভাব প্রকাশ করেছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগবে।

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

পাঠকের মন্তব্য (0)

সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময়সূচী

ওয়াক্ত সময় শুরু
ফজর ০৩:৫৬
জোহর ১২:০৬
আসর ১৫:২৮
মাগরিব ১৮:৫০
এশা ২০:১৬
সূর্যোদয় ০৫:২২
সূর্যাস্ত ১৮:৫০
তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৮