শিরোনাম :
-->
English
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
ঢাকা, রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৮ ইং

প্রচ্ছদ » জাতীয় !!

মেঘনায় ১০দিনে অর্ধশত ট্রলারে ডাকাতি

15 Sep 2013 05:10:48 PM Sunday BdST

ভোলায় ইলিশ পড়ার সাথে সাথে ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে আশংকাজনক হারে। জেলেরা ডাকাতের ভয়ে নদী থেকে উঠে বাড়ি চলে যাচ্ছেন বলে জানালেন ব্যবসায়ী ও জেলেরা। গত ১০দিনে অর্ধশত ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে,নিখোঁজ রয়েছে অনেক জেল। অপহৃত জেলে, জাল,নৌকা আনতে গুনতে হচ্ছে লাখ লাক টাকা। ভোলার ঢালচর,কুকরী-মুকরী ও কলাতলীর চরে পুলিশের ক্যম্প থাকার পরেও পুলিশের সামনে থেকেই জলদস্যুরা ধরে নিয়ে যায় জেলেদেরকে। সাধারন জেলে ও ব্যবসায়ীদের মন্তব্য হচ্ছে,নৌ-যান আর পুলিশের আন্তরিকতা না থাকলে জলদস্যু দমনের জন্য করা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র কোন উপকারেই আসবে না। ভোলার সর্ব দক্ষিনের সাগড় ঘেষা চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ও চর কুকরী-মৃকরী ইউনিয়ন। যেখানের জেলেরা জীবনের ঝুকি নিয়ে মেঘনা ও সাগড়ে ইলিশ মাছ ধরার কাজে দিন-রাত ব্যস্ত সময় কাটায়। এসব জেলেরা উত্তাল সাগড়কে জয় করতে পারলেও হামলার স্বিকার হয় জলদস্যুদের। পুলিশ,কোস্টগার্ডসহ প্রশাসনের কোন সহযোগীতা না পেয়ে মাছ ধরতে পারবেন বলে আশা করে টাকা দিয়ে ঢালচরের মোঃ গিয়াস উদ্দিন মাঝি সংগ্রহ করেন জলদস্যু বাংলাদেশ টাইগার বাহিনীর টোকেন। বাংলাদেশ টাইগার গ্রুপের টোকেন সংগ্রহ করেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না ঢালচরের গিয়াস উদ্দিন মাঝির। তিনি অভিযোগ করে বলেন জলদস্যুরা অত্যাচার থামাছে না। রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না জলদস্যুর হামলা,ট্রলার,জাল,মাছ নিয়ে যাওয়ার হাত থেকে। তার অভিযোগ হচ্ছে ঢালচরে পুলিশ ক্যম্প থাকার পরও তাদেরকে জানানো হলেও তারা সাহায্যর জন্য আগায় না। আবার কখনো এগিয়ে আসলেও তাদের সামনে থেকেই জলদস্যু বাহিনী জেলেদের নিয়ে যায়। একই সাথে মারধোর জেলেদেরকে নদী ফেলে দিয়ে জাল,নৌকা আর মাছ নিয়ে যায়। অপহৃত জেলে,নৌকা আর জাল আনতে লাখ লাখ টাকা দিয়েও জলদস্যুদের কাছ থেকে আনা সম্ভব হচ্ছে না জেলে, জাল,নৌ। সেখানেও হয়রানীর স্বিকার হতে হচ্ছে। গিয়াস উদ্দিন মাঝি বল্লেন,যেখানে পুলিশ ক্যম্প থাকার পরও কোন উপকার হচ্ছে না,সেখানে তদন্ত কেন্দ্র করে কিলাভ হবে তাদের। তার চেয়ে পুলিশের জন্য নৌ-যান এবং তাদের সাথে সাথে কোস্টগার্ডকে আন্তরিক ভাবে কাজ করার দাবী তার। মেঘনাকে নিরাপদ চেয়ে জলদস্যু মুক্ত নদীর দাবিতে ঢালচরের সাধারন জেলেরা মানববন্ধন করেছে। এসব এলাকার মাছ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন নদীতে ইলিশ পড়তে শুরু করায়,ডাকাতীর ঘটনা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীতে মাছ ধরতে গেলেই আক্রমনের স্বিকার হয় জেলেরা। প্রতিদিন ৮/১০টি করে মাছ ধরার ট্রলার ডাকাতরা নিয়ে যায়। নৌকা,জেলে আনতে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়। আবার জেলেদের মেরে নদীতে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করেন ঢালচরের মাছ ব্যসায়ী মোঃ শাহ আলম ফরাজী। তাই জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে না গিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছে বলেও জানালেন তিনি। একই সাথে আরো বলেন,অনেক জেলেকে এখনো ফিরিয়ে আন সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন,পুলিশ তদস্ত কেন্দ্রর সাথে সাথে পুলিশকে অভিযান চালানোর জন্য নৌ-যান দেয়া হলে ভালো হতো। এই এলাকায় পুলিশ ও কোস্টগার্ড কোন অভিযান চালায় না। একই অভিযোগ করলেন একই এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম হাওলাদার। অপরদিকে জেলেরা অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কখনো আইন নিজেদের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন ঘটনা প্রায় ঘটছে ভোলার চরাঞ্চল গুলোতে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে জলদস্যুরা বনের ভিতর ঢুকে গেলে প্রায় সময় সাধারন জেলেরা জলদস্যুদের ধরে পিটিয়ে হত্যা,চক্ষু উৎপাটনের মত ঘটনা প্রায় ঘটছে। এমনি ঘটনা ভোলার মনপুরা, চরফ্যাশন,তজুমদ্দিন উপজেলায় বহুবার ঘটেছে। মারা গেছে জলদস্যু বাহিনীর জয়নাল ¯িপকার,মুন্সিয়া বাহিনীর প্রধানসহ বহু জলদস্যুসহ ভয়ংকর জলদস্যু বাহিনীর প্রধানরা। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে এসব জলদস্যুদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাই মাছ ধরার ট্রলারে শুধু ইলিশ নয় জলদস্যুদের লাশো দেখা যায়। পুলিশ তাদের অক্ষমতার কথা স্বিকার করে ঢালচর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রর ইনচার্জ(এসআই) মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন,তাদের জনবল থাকলেও নদীতে যখন ডাকাতির খবর পাই,তখন অভিযান চালানোর জন্য কোন নৌযান পাইনা। তখন কিছুই করার থাকে না। জেলেদের নৌকা নিয়ে যেতে যেতে ডাকাতরা চলে যায়। সরকারী ভাবে কোন নৌযান থাকলে নদীকে নিরাপদ রাখতে স্বক্ষম। পুলিশ সুপার (এসপি)মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন,জলদস্যু দমনে পুলিশের রয়েছে অনেক সফলতা। তবে পুলিশ ক্যম্বগুলোতে কোন নৌ-যান না থাকায় টহল দেয়াসহ খবর পেয়ে দ্রুত অভিযডান চালানো সম্ভব হয় না। বেশ কয়েকবার পুলিশের জলদস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। সরকারী ভাবে এসব ক্যম্পগুলোতে নৌ-যান পেলে নদীকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ সক্ষম। এছাড়া মন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। 

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

পাঠকের মন্তব্য (0)

সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময়সূচী

ওয়াক্ত সময় শুরু
ফজর ০৫:২৫
জোহর ১২:১১
আসর ১৫:১৬
মাগরিব ১৭:৩৭
এশা ১৮:৫৭
সূর্যোদয় ০৬:৪৫
সূর্যাস্ত ১৭:৩৭
তারিখ ২১ জানুয়ারী ২০১৮