শিরোনাম :
-->
English
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ইং

প্রচ্ছদ » জাতীয় !!

ঐশীর বেপরোয়া জীবনের সঙ্গী ছিল জনি

20 Sep 2013 11:42:30 AM Friday BdST

নেশার টাকা যোগাড় করতে অনেকেরই সঙ্গী হয়েছে ঐশী রহমান। অসংখ্য চেনা-অচেনা জনের কাছাকাছি সময় কাটিয়েছে। শুধু তাই নয়, মোটা অঙ্কের টাকার জন্য বাইজি বেশে দুবাই যেতেও রাজি হয়েছিল ঐশী। গতকাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দিয়েছে ঐশীর বয়ফ্রেন্ড আসাদুজ্জামান ওরফে জনি (২৭)। দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর গত বুধবার রাতে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় সে। গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর আরও তথ্য আদায়ের জন্য জনিকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন। গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনি জানায়, তার ড্যান্স গ্রুপের নাম ‘স্টেপ আপ’। এই গ্রুপের সদস্য হিসেবে ঐশীকে দুবাই নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।  সেখানে কয়েকটি পার্টিতে অংশগ্রহণের বিনিময়ে ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। এ জন্য ঐশীর নামে পাসপোর্ট ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছিল। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর নিজেই পুলিশের কাছে ধরা দেয়ায় ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ দম্পতি মাহফুজুর রহমান ও স্বপ্না রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত দম্পতির কন্যা ঐশী রহমানকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়। ঐশী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে জনিকে খুঁজছিল গোয়েন্দা পুলিশ। জনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির জয়েন্ট কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ দম্পতি  হত্যাকাণ্ডের পর ঐশীকে বিদেশে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিল জনি। নিজেকে ড্যান্স মাস্টার পরিচয় দিয়ে আরও অনেক তরুণীকে দেশের বাইরে পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা করেছে সে। গত ১৬ই আগস্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর চামেলীবাগে নিজেদের ফ্ল্যাটে পুলিশের বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।  দুই সন্তান ও  শিশু গৃহকর্মী খাদিজা খাতুন সুমিকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন তারা। লাশ উদ্ধারের সময় দুই সন্তান ঐশী, ঐহী ও কাজের মেয়ে নিখোঁজ ছিল। পরে ঐশী পুলিশের কাছে ধরা দেয়ার পর পুলিশ দম্পতি হত্যাকাণ্ডের রহস্য খোলাসা হতে থাকে। গোয়েন্দা পুলিশের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে নিজের বাবা-মাকে খুন করার কথা স্বীকার করে ঐশী। এক পর্যায়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওইসময় ঐশী পুলিশ ও আদালতের  কাছে তার অনিয়ন্ত্রিত ও বেসামাল জীবন যাপনের তথ্য দিয়েছিল। মাদক সেবন ও অসংখ্য বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার কথা স্বীকার করেছিল। বলেছিল, তার অবাধ স্বাধীনতায় বাবা-মা বাধা দেয়ায় তাদের হত্যা করার পরিকল্পনা করে। বিষয়টি ঘনিষ্ঠ বন্ধু জনির সঙ্গে পরামর্শ করেছিল। সেই মোতাবেক বাবা-মাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে একাই কুপিয়ে হত্যা করেছে। মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে ঐশী ছাড়া অন্য কারও সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জনিকে ঐশীর আশ্রয়দাতা বলা যেতে পারে। মাদক  কেনাবেচায়ও জনির সম্পৃক্ততা রয়েছে।  গোয়েন্দারা জানান, ডিজে ও ড্যান্স পার্টির আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক কেনাবেচার রমরমা ব্যবসা চলে। বিত্তশালী ও প্রভাবশালী লোকজনের ছত্রছায়ায় সক্রিয় একাধিক সিন্ডিকেট ডিজে পার্টির নাম করে উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণীদের টার্গেট করে। নানা ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে বিপথে নামিয়ে আনে। এমন একটি সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছিল ঐশী। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মোখলেছুর রহমান বলেন,  পুলিশ দম্পতি  হত্যা মামলার  প্রধান আসামি ঐশী রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল জনি। হত্যাকাণ্ডের পর ঐশী তার আশ্রয়ে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দেয়। জনি খুনের ঘটনার পরে ঐশীকে দুবাই পাঠানোর উদ্দেশ্যে তার বন্ধু  মিজানুর রহমান রনির মাধ্যমে উত্তর মুগদা এলাকার মদিনাবাগের একটি বাড়িতে আশ্রয় দেয়। এছাড়া, ঐশী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় জনির নাম প্রকাশ করে। হত্যাকাণ্ডের পর গত ১৮ই আগস্ট ঐশী পুলিশের কাছে ধরা দেয়ার পর তার বন্ধু মিজানুর রহমান রনি ও জনিকে নিয়ে সন্দেহের কথা পুলিশ জানিয়েছিল

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

পাঠকের মন্তব্য (0)

সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময়সূচী

ওয়াক্ত সময় শুরু
ফজর ০৩:৫৬
জোহর ১২:০৬
আসর ১৫:২৭
মাগরিব ১৮:৫০
এশা ২০:১৬
সূর্যোদয় ০৫:২২
সূর্যাস্ত ১৮:৫০
তারিখ ১৬ জুলাই ২০১৮