শিরোনাম :
-->
English
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ইং

প্রচ্ছদ » জাতীয় !!

বেসামাল পুলিশ

26 Sep 2013 04:47:39 PM Thursday BdST

কঠিন সময় পার করছে পুলিশ। একদিকে অশান্ত গার্মেন্ট সেক্টর, অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, ছাত্র শিবিরের তান্ডব, মাদক চোরাচালান এবং পেশাদার অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসামাল পুলিশ প্রশাসন। সরকারের শেষ সময়ে ভিআইপিদের নিরাপত্তা জোরদার ও ঈদকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া হয়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তাদের। একই সাথে বিএসএফ প্রতিনিয়ত বাংলাদেশী নাগরিকদের ধরে নিয়ে যাওয়া, হত্যা ও অবৈধ অনুপ্রবেশসহ নানা অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সীমান্তে। সীমান্তে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের চেয়ে বিএসএফয়ের অনৈতিক কার্যকলাপ প্রতিরোধেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হয় সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশকে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাট ও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পশু পরিবহনে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ব্যাপক চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। চাঁদাবাজি এবং হাইওয়েকে যানজট মুক্ত করতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। সামনে নানা সমস্যার সাথে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়লে কিভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তা নিয়ে সংকিত পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও কোরবানির ঈদ ও পূজাকে সামনে রেখে আগামীতে করণীয় নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ সদরদফতরে বিশেষ বৈঠক করবেন সারাদেশের পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। কোরবানির ঈদ ও পূজার নিরাপত্তার পাশাপাশি সারাদেশে জামায়াত-শিবির পুলিশের উপর যে হামলা চালাচ্ছে তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা এবং করণীয় নির্ধারিত করা হবে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সংখ্যা অনেক কম। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় পুলিশকে সব সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। মন্ত্রীর উস্কানিমূলক বক্তব্যের ফলে গার্মেন্ট সেক্টরে যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে তা সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসনকে অতিরিক্ত শ্রম ও শক্তি প্রয়োগ করতে হচ্ছে। মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, পেশাদার খুনি ও রাজনৈতিক ছাত্রছায়ায় থাকা অপরাধীরা গ্রেফতারের পর দ্রুত জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসে একই কাজে জড়িয়ে পড়ছে। উন্নয়নশীল যে কোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশের পুলিশ এখন কঠিন সময় পার করছে। তাছাড়া যানবাহনের অভাব, খাবার ও বিশ্রামসহ নানা সমস্যা রয়েছে পুলিশ প্রশাসনে। তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ভাটা পড়লে যে কোন সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড। পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের কারনে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও কেউ উস্কে দিয়ে যেন অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সরকারকে সর্তক থাকতে হবে বলে বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য। 
আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, দেশের সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ও সন্তুষজনক পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ একটি পেশাদার বাহিনী। মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় বলিয়ান হয়ে দেশ সেবায় কাজ করছে পুলিশের প্রতিটি সদস্য। বর্তমানে গামেন্ট সমস্যাসহ যে রাজনৈতিক কর্মসূচী রয়েছে তা মোকাবিলা করার মতো প্রশিক্ষণ ও মানসিকতা আমাদের রয়েছে। 
আইজিপি বলেন, পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য। সমাজ ও জনস্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে পুলিশের কোন সদস্য বা কর্মকর্তা আইনবহির্ভূত কোন কাজ করলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
পুলিশের বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গতকাল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচি, জামায়াত-শিবিরের তান্ডব আর গার্মেন্ট শিল্পের অস্থিরতা মোকাবেলায় ব্যস্ত পুলিশ। তার সাথে রয়েছে ভিআইপিদের নিরাপত্তা। আইন-শৃংখলা রক্ষার বাইরে পুলিশের একটি বড় অংশকে ভিআইপি ও মন্ত্রী-আমলাদের নিরাপত্তার কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে অপরাধী, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী, পেশাদার সন্ত্রাসী এবং হত্যা ও চোরাচালানসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় মনোযোগ দেয়া মাঠ পর্যায়ের পুলিশের পক্ষে বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। 
রাজধানীর বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক আন্দোলন সামাল দিতে ব্যস্ত থাকায় তারা তদন্তে যথেষ্ট সময় দিতে পারেননি। মামলার সুপারভাইজিং কর্মকর্তারাও রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা ছক তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় তারাও ঠিকমতো তদন্ত মনিটর করতে পারছেন না।
ডিএমপির একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, সরকারের মেয়াদের শেষদিকে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠার রেওয়াজ রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজনৈতিক কর্মসূচি সামাল দেয়ার ফাঁকে অপরাধ দমন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামলে পুলিশের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।
সূত্র জানায়, বেতন-ভাতার দাবিতে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় গতকাল বুধবার গাজীপুরে গার্মেন্ট কারখানায় হামলা করেছে শ্রমিকরা। পাশাপাশি তারা ছিনিয়ে নিয়েছে শিল্প পুলিশের একটি অস্ত্র। এসময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০জন শ্রমিক। গাজীপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নৌপরিবহন মন্ত্রীর ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা করার দাবি জানানোর পর থেকে শ্রমিকদের বিক্ষোভে আবারও অশান্ত হয়ে উঠে দেশের পোশাক শিল্প। গত সোমবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর করেছে। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল রাজধানীতে পূর্বঘোষিত কর্মসূিচ পালন করতে গেলে পুলিশ হেফাজতের কর্মীদের বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দেয়ায় সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সাথে জামায়াত-শিবিরের ব্যাপক সংঘর্ষেও ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ আহত হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক জামায়িত-শিবির কর্মী এবং আটক করা হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ নেতাকর্মীকে। রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহী, সিলেট, চাঁদপুর, ফরিদপুর, ফেনিসহ দেশের বিভিন্নস্থানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শিবিরের হামলায় বেশ কয়েকটি জায়গায় পুলিশ আহত হয়। ফরিদপুরে শিরিরের হামলায় গুরুতর আহত হয় সুশীল কুমার নামের এক ট্রাফিক কনস্টেবল। ফেনিতে শিবিরের হামলায় এসআই মোহাম্মদ উল্যাহ, মোস্তাফিজুর রহমান, নুর নবী, ইব্রাহীমসহ ১০ জন আহত হন। গতকাল বুধবার কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড পাওয়া উপলক্ষে আনন্দ মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে ছাত্রলীগ নেতারা ইবি থানার ওসি মনিরুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন পুলিশকে মারধর করেন। তথ্যমন্ত্রীর বাসভবনে কথিত হামলায় ছাত্রদল সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের নামে অভিযোগপত্র দায়েরের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে সংঘষ হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল মিছিল বের করলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। 

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

পাঠকের মন্তব্য (0)

সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময়সূচী

ওয়াক্ত সময় শুরু
ফজর ০৩:৫৬
জোহর ১২:০৬
আসর ১৫:২৭
মাগরিব ১৮:৫০
এশা ২০:১৬
সূর্যোদয় ০৫:২২
সূর্যাস্ত ১৮:৫০
তারিখ ১৬ জুলাই ২০১৮