শিরোনাম :
-->
English
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ইং

প্রচ্ছদ » জাতীয় !!

অসহনীয় লোডশেডিং

28 Sep 2013 11:13:13 AM Saturday BdST

রাজধানীসহ সারাদেশে অসহনীয় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। একদিকে ভ্যাপসা গরম অন্যদিকে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ মানুষ। এমনকি ছুটির দিনেও লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রামে বিদ্যুতের অবস্থা আরো খারাপ। দিনের বেলা বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ এলেও বারবার লোডশেডিং হতে থাকে। অব্যাহত লোডশেডিংয়ে গ্রাহকরা ফুঁসে উঠছে। বিদ্যুতের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে হরতাল, অবরোধ, ভাঙচুর হয়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করেছেন বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা। পিডিবি জানায়, কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্র সংস্কারের কারণে বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন আগের তুলনায় আরো কমেছে। সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার থেকে গ্যাসক্ষেত্রটির সংস্কার শুরু হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবরের আগে ক্ষেত্রটি চালু হবে না। সরকারি হিসাবে এখন সারাদেশে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। বিতরণ কোম্পানিগুলো জানায়, ভ্যাপসা গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। অন্যদিকে উৎপাদন কম হওয়ায় লোডশেডিং বেশি করতে হচ্ছে। এখন সারাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ৯ হাজার ১৫১ মেগাওয়াট। গত ২৫ সেপ্টেম্বর দেশে মোট ৫ হাজার ৮১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। সরকারি হিসাবে ৬০৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা হলেও বেসরকারি হিসাবে এ চাহিদা প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। পিডিবি জানায়, শুধু গ্যাসের কারণেই প্রায় ১ হাজার ৪৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে ৮৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। তবে পিডিবির এ হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। হিসাব অনুযায়ী দেশে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে। অর্থাৎ বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বর্তমানে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। পিডিবির হিসাবেই মাত্র ১১১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের কারণে ১ হাজার ৪৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদিত হচ্ছে।  
এছাড়া এক হাজার ৩৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কম উৎপাদন হচ্ছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম বলেন, কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্র বন্ধ হওয়ার কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন কিছু কম হচ্ছে। ক্ষেত্রটি চালু হলে এ সমস্যা কেটে যাবে। এছাড়া কিছু কেন্দ্র সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মেরামত খুব শিগগির শেষ হবে বলে তিনি জানান। 
বিতরণ কোম্পানির একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতি বছর আগস্ট সেপ্টেম্বরে এসে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়। কিন্তু এবার উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এসেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পিডিবি তার হিসাবে পিক আওয়ারে ছয় হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলছে। কিন্তু প্রাথমিক ব্যবহার এবং সঞ্চালন ক্ষতি বাদ দিয়ে সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এতে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। 
জ্বালানি সংকট ও মেরামত ছাড়াও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের উৎপাদন ক্ষমতার সমান বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারার কারণেও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান সরকারের সময় চালু হওয়া ৫৬ কেন্দ্রর মধ্যে ৬০ শতাংশ তেল চালিত। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় এসব কেন্দ্র স্থাপন করা হলেও এখন ভর্তুকির বোঝা কমাতে সারাদিন কেন্দ্রগুলো চালু রাখা হয় না। সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে তাদের কাছ থেকে বেশি বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। 
এদিকে কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্রের বিষয়ে পেট্রোবাংলা জানায়, সংস্কারের জন্য ১৫ দিন গ্যাসক্ষেত্রটি বন্ধ থাকবে। আগামী ৫ অক্টোবর আবার উৎপাদন শুরু হবে। 
এদিকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানান, অব্যাহত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা ঝিনাইদহ, লক্ষ্মীপুর, গাইবান্ধা ও দিনাজপুরে মিছিল, সমাবেশ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে বিদুতের দাবিতে গ্রাহকরা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে এ হামলা হয়। গ্রাহকরা অফিস চত্বরে রক্ষিত ২টি মোটরসাইকেল ও অফিসের চেয়ার-টেবিলে অগ্নিসংযোগ করে। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শতাধিক গ্রাহক বিদ্যুতের দাবিতে শহরের সাতব্রিজ রোডে অবস্থিত বিদ্যুৎ অফিসে ঢুকে অফিসের চেয়ার-টেবিলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। 
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা হরতাল গত বুধ ও বৃহস্পতিবার। এ সময় সকালে দুই দফা নতুন বাজারস্থ পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে আবারো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালানো হয়। এছাড়া লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়কের রায়পুর প্রধান সড়কে হরতালের প্রথম দিন টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে হরতালকারীরা। বিদ্যুতের দাবিতে মঙ্গলবার রায়পুর শহরে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষুব্ধরা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করে। পরে রাত ১১টার দিকে ৪৮ ঘণ্টা হরতাল আহ্বান করে তারা। 
গাইবান্ধার সীমাহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে জাসদ ছাত্রলীগের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিদ্যুৎবিহীন রাতের অন্ধকারে জেলা শহরে এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে জাসদ কার্যালয় চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গোলাম মারুফ মনা, সুজন প্রসাদ, আদনান, আমির হোসেন সোহেল, জান্নাতুল ফেরদৌস কানন, বিশাল আহমেদ, রাজু মিয়া, রায়হান কবির প্রমুখ। 
বীরগঞ্জে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে গত বুধবার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপজেলা পরিষদ ঘেরাও এবং দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ করে। তবে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া দিলে অবরোধকারীরা পালিয়ে যায়।
 

এই সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

পাঠকের মন্তব্য (0)

সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদ আর্কাইভ

নামাজের সময়সূচী

ওয়াক্ত সময় শুরু
ফজর ০৩:৫৬
জোহর ১২:০৬
আসর ১৫:২৭
মাগরিব ১৮:৫০
এশা ২০:১৬
সূর্যোদয় ০৫:২২
সূর্যাস্ত ১৮:৫০
তারিখ ১৬ জুলাই ২০১৮